প্রাইমারি, ব্যাংক এবং বিসিএসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বানান

 



বিসিএসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বানান

অভ্যন্তরীণ, আনুষঙ্গিক, ক্ষীণজীবী, মুমূর্ষু
উন্মীলন, কৃষিজীবী, গৃহিণী, বিভীষিকা,
নির্নিমেষ, নিরীক্ষণ, দধীচি, মুহুর্মুহু,
দ্বন্দ্ব, দুরবস্থা, অদ্যাপি, আকাঙ্ক্ষা, ঊর্ধ্ব,
আবির্ভাব, আলস্য, অত্যন্ত, অতিথি, ঊর্মি
অধীন, অমাবস্যা, অন্বেষণ, অর্ধেক, গণনা,
ইন্দিয়, ইতঃপূর্বে, ইতোমধ্যে, উদগিরণ,
উদ্ভূত, উন্মেষ, উন্মীলিত, ঐশ্বরিক, গৃহস্থ,
ঔজ্জ্বল্য, ঐন্দ্রজালিক, আদ্যক্ষর, কনিষ্ঠ,
ক্ষুৎপীড়িত, কুজ্ঝটিকা, কৌতূহল, খোদিত,
গীতাঞ্জলি, গভর্নর, ছান্দসিক, সলীল,
সমাধী, জ্ঞানভূষিত, ঝঞ্ঝাট, ঝঙ্কার, ধরণ,
তিতিক্ষা, ন্যূনাধিক, নিরহংকার, তিরস্কার,
নিশীথিনী, তদ্ধিত, নিপীড়িত, দুরন্ত,
তেজস্ক্রিয়তা, প্রতিদ্বন্দ্বী, পতিতি, পরিপক্ব
পিপীলিকা, প্রকোষ্ঠ, ফনিভূষণ, ফার্নিচার,
প্রণিপাত, মরূদ্যান, পঙ্কিল, মাদ্রাসা,
ভবিষ্যৎ, ভাগীরথী, বিবাদী, মরীচিকা, ভীতু
বীণাপাণি, বিশ্রুতি, মহীরুহ, মুহূর্ত, দূষণ
রূপায়ণ, নিরীক্ষণ, পাষাণ, উপযুক্ত,
রৌদ্রকরোজ্জ্বল, উপর্যুক্ত

 

বিসিএস ও অন্যান্য জবের জন্য বানান ও বাক্য শুদ্ধি: পর্ব ০১

বানান ও বাক্য শুদ্ধি
কথার শুদ্ধতা বজায় রাখার জন্য যেমন শুদ্ধ উচ্চারণ দরকার হয় তেমনি ভাষার শুদ্ধতা বজায় রাখান জন্য দরকার প্রমিত বানান। এই উদ্দেশ্যে পঞ্চম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বানান প্রশ্নে আওতায় আনা হয়েছে।
বানান সময়োপযোগী হয়ে থাকে। শব্দের প্রমিত বর্ণ বিশ্লেষণ হলো বানান। সংস্কৃত বর্ণন থেকে বানান এসেছে যার অর্থ শব্দের মধ্যকার বর্ণসমূহের বিশ্লেষণ বা ক্রমিক বর্ণন (বর্ণ+অন)। শব্দের উৎপত্তি, অর্থ ও গঠন অনুসারে শব্দের প্রমিত লিখিত রূপকে বানান বলে। Spelling is the act of naming the letters of words অর্থাৎ বানান হলো শব্দে অবস্থানরত বর্ণের লিখিত নিয়ম। শব্দ বিভিন্ন ভাষা থেকে আসে বলে বানান মনে রাখা কষ্টসাধ্য। বানান একটি পদ্ধতি তাই সর্তকতার সাথে পাঠ করে মনে রাখতে হয়। উচ্চারিত শব্দের লিখিত রূপই বানান তাই শব্দের উচ্চারণ ও লিখিত রূপ এক হয় না। যেমন: অণু/ওনু, কবি/ কোবি, বধূ/বোধু, স্বাগতম/ শাগোতোম, পদ্ম/পোদদো, আত্মা/আততা, সমাস/শমাশ ইত্যাদি। তবে প্রায় নির্দিষ্ট নিয়মের মাধ্যমেই এমনটি হয়ে থাকে। বাংলা বানানের নির্দিষ্ট রূপ দেয়া যায় না বলে বানানকে ‘প্রমিত বানান’ বলা হয়। শব্দের উৎপত্তি, গঠন ও উচ্চারণ অনুসারে সময়োযোগী করে লিখিত বানানকে প্রমিত বানান বলে।
বানান অপ্রমিতের কারণ
সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে বানান লেখাটাই প্রমিত বানান। বিভিন্ন কারণে বানান অপ্রমিত হতে পারে। যেমন :
১. শব্দের উৎপত্তিগত কারণে বানান অপ্রমিত হয়। সংস্কৃত শব্দের বানান যেমন তেমন না তদ্ভব, দেশি, বিদেশি শব্দের বানান। যেমন: বৈশাখী, বোশেখী, সূয্যী, সন্ধ্যে, ঠাণ্ড, ইঞ্জিন, নামায, টিস্যু, গ্যেটে, একাডেমী।

২. শব্দের গঠনগত কারণে বানান অপ্রমিত হয়। যেমন : শ্রেণী, প্রাণীবিদ্যা ইত্যাদি।
৩. বানান বিধানগত কারণে বানান অপ্রমিত হয়। যেমন : প্রমান, লজ্জাস্কর, স্বত্ত্ব।
৪. কার ও ফলা, যুক্তবর্ণ ভুল ব্যবহারের কারণে বানান অপ্রমিত হয়। যেমন : করল—করলো, জ্যোতি—জ্যোতি, বক্ষ-বহ্ম, অপরাহ্ন।
৫. সমার্থক বা সমোচ্চারিত শব্দ ভুল ব্যবহারের কারণে বানান অপ্রমিত হয়। যেমন : হিরণ—কিরণ—জ্যোতি, অংশ—অংস, অশ্ম—অশ্ব,
৬. উচ্চারণগত কারণে বানান অপ্রমিত হয়। যেমন : কলোম, করছিলো, কোরবো, রাসূল, সূরা, ইস্যু, টিশ্যু ইত্যাদি।
৭. সমধ্বনি বা বর্ণের ভুল ব্যবহারের কারণে বানান অপ্রমিত হয়। যেমন : অ—ও—য়, আ—য়া, ই—ঈ, উ—ঊ, জ-য, ঙ—ং, ত—ৎ, ত্ত—ত্ত্ব—ত্য—ত্ম, ণ—ন—ঞ, র-ড়-ঢ়, শ—স—ষ ইত্যাদি।
৮. শব্দের উৎপত্তি ও গঠন অনুসারে ‘ই/ঈ/উ/ঊ-কার’, ‘ঙ/ং’, চন্দ্রবিন্দু, বিসর্গ বা য-ফলা হয়ে থাকে। সেহেতু এগুলোর সঠিক ব্যবহার জানা দরকার। শব্দের উৎপত্তি ও গঠন অনুসারে ণত্ব (ণ/ন), ষত্ব (ষ/স/শ), রত্ব (র/ড়/ঢ়), জত্ব (জ/য), তত্ব (ত/ৎ) ইত্যাদি বানান ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
৯. উচ্চারণ অনুসারে বানান লিখলে তা প্রমিত হয় না। যেমন : কলোম, কলোস, করছিলো, কোরবো ইত্যাদি।
১০. অযাচিত ভুল ব্যবহার করে বানান অপ্রমিত বরা হয় (আ-কার বা ও-কার)। যেমন: ‘আম’ শব্দকে ‘অম’ লেখা। ‘করল’ শব্দকে ‘করলো’ লেখা।
১১. সঠিক নিয়ম অমান্য করে বানান অপ্রমিত করা হয়। ইন-প্রত্যয়জাত শব্দ ঈ-কার দিয়ে লেখা হয়। যেমন : জ্ঞানী, গুণী, গাভী। ইন-প্রত্যয়জাত শব্দ ই-কার দিয়ে লেখা হয়। যেমন : গ্রন্থি, দায়ি, শ্রেণি।
বানান প্রমিতকরণের উপায়
অনেক ভাষা (অস্ট্রিক, দ্রাবিড়, আর্য বা বৈদিক, সংস্কৃত, পালি, প্রাকৃত, অপভ্রংশ, দেশি, আঞ্চলিক ও বিদেশি) থেকে আগত শব্দের বানান হতে পারে। আবার শব্দের গঠন ও উচ্চারণগতভাবেও বানান হতে পারে। ভাষা হলো সংস্কারের ফসল।
আঞ্চলিক ভাষা হলো চলিত ভাষার সংস্কার। চলিত ভাষা হলো সাধুভাষার সংস্কার। সাধুভাষা হলো সংস্কৃত ভাষার সংস্কার। সংস্কৃত ভাষার হলো তৎসম ভাষার সংস্কার। তৎসমভাষা হলো বৈদিক ভাষার সংস্কার। এই যে ধারাবাহিক সংস্কার তা বহু বছরের, বহু কালের, বহু শতাব্দীর। সমস্ত বানানকে তিনটি উপায়ে প্রমিত করা যেতে পারে। যেমন :
শব্দের উৎপত্তিগত বানান
সংস্কৃত শব্দ, খণ্ডসংস্কৃত শব্দ, তদ্ভবশব্দ, আঞ্চলিক শব্দ, দেশি শব্দ, প্রাদেশিক শব্দ, বিদেশি শব্দ ও পারিভাষিক শব্দ অনুসারে শব্দের বানান নির্ধারণ হতে পারে। যেমন:
সংস্কৃত শব্দ
সংস্কৃত শব্দের বানান অপরিবর্তিত থাকে। যেমন: গাত্র, কর্ণ, বৃক্ষ, মৎস্য, স্বর্ণ, ক্ষেত্র, করিতেছি, করিতেছিলাম।
খণ্ডসংস্কৃত শব্দ
খণ্ডসংস্কৃত শব্দের বানান পরিবর্তনশীল। যেমন: গতর, গিন্নি, কান, গাছ, মাছ, সোনা, খেত, করছি, করছিলাম।
তদ্ভব শব্দ
তদ্ভব শব্দের বানান পুরোটাই পরিবর্তিত রূপ ধারণ করে। ঈ-কার হয়ে যায় ই-কার। ঊ-কার হয়ে যায় উ-কার। ণ-হয়ে যায় ন। য-ফলা থাকে না। যেমন: বোশেখি, কুমির, সুয্যি/সুজ্জি, সোনা, বরন, কিষান, সন্ধে।
আঞ্চলিক শব্দ
আঞ্চলিক শব্দের বানান পুরোটাই পরিবর্তন হয়। যেমন: হাত>ড্যানা, ষাঁড়>হাড় ইত্যাদি।
দেশি শব্দ : দেশি শব্দের বানান নিজস্ব রূপে থাকে। যেমন: কুলা, চুলা, কুড়ি।
প্রাদেশিক শব্দ
সংস্কৃত বাদে ভারতবর্ষের অন্যান্য অঞ্চলের শব্দ বাংলা প্রবেশ করেছে পরিবর্তিত রূপে। প্রাদেশিক শব্দে ঙ/ছ/য/ণ/ষ/ঞ্জ/ঞ্চ/ঈ-কার/ঊ-কার বসে না। যেমন: হিন্দি: কাহিনি (কাহানি), ঠান্ডা (ঠান্ডি)।

বিসিএস ও অন্যান্য জবের জন্য বানান ও বাক্য শুদ্ধি: পর্ব 02

বিদেশি শব্দ
বিদেশি শব্দের বানান পুরোটাই পরিবর্তিত রূপ ধারণ করে। ‘আ’ না হয়ে ‘য়া’ হয় তবে ‘কোরআন’সহ কয়েকটি বানানে ‘আ’ লেখা হয়। শব্দের শেষে ‘হ’ বসে না তবে ‘আল্লাহ’ শব্দে বসানো হয়। ‘ঈ-ঊ’ না হয়ে ‘ই/উ’ হয়। ‘ঙ/ছ/ঞ্জ/ঞ্চ/ণ/ণ্ট/ ণ্ড/ষ্ট’ ইত্যাদির পরিবর্তে স/শ/নজ/নচ/ন/ন্ট/ন্ড/স্ট’ হয়। কিন্তু এখনও ‘ঙ/ছ/ঞ্জ/ ঞ্চ/ণ/ণ্ট/ ণ্ড/ষ্ট’ দিয়ে লেখা হচ্ছে। যেমন: চীন, লুঙ্গি, ডেঙ্গু, ঝাণ্ডা, ঠাণ্ডা, লণ্ঠন, মিছরি, পছন্দ, তীর (ধনুক), ইঞ্জিনিয়ার, সেঞ্চুরী, বাঙ্কার, খ্রিষ্টার্ন, যিশু ইত্যাদি। সকল প্রাদেশিক ও বিদেশি শব্দে ঈ-কার না বসে ই-কার বসে। যেমন: শুমারি, আমদানি, খানদানি, খুশকি, খুশি, বন্দি, , জমি, জামদানি, জিন্দাবাদ, জিন্দেগি, দরজি, দাগি, বিরিয়ানি, মুরগি, আবির, আমিন, আসামি, গরিব, কেরানি, দাদি, নানি, চাচি, মাসি, ভাবি, কাহিনি, কোম্পানি, জানুয়ারি। এখনও লেখা হচ্ছে : জঙ্গি, জিঞ্জির, সেঞ্চুরি, চৌধুরী। চীন, লুঙ্গি, ডেঙ্গু, ঝাণ্ডা, ঠাণ্ডা, লণ্ঠন, মিছরি, পছন্দ, তীর (ধনুক), ইঞ্জিনিয়ার, সেঞ্চুরী, বাঙ্কার, খ্রিষ্ট, খ্রিষ্টার্ন, যিশু।

পারিভাষিক শব্দ
রূপ, রস, গন্ধ, কাজ অনুসারে বিশেষ অর্থ প্রকাশের জন্য ইংরেজি শব্দ অনুবাদ করা হয়। এসব শব্দের বানান উৎপত্তিগত ও গঠনগত হতে পারে। যেমন : সিলেবাস—পাঠ্যসূচি, আইন—অ্যাক্ট, অক্সিজেন—অম্ল।
শব্দের গঠনগত বানান
সাধারণত গঠনগত বানান সব সময়ই অপবির্তনশীল। সন্ধি, সমাস, প্রত্যয়, উপসর্গ, বিভক্তি, শব্দদ্বিত্ব, বচন, নির্দেশক, শব্দ রূপান্তর ইত্যাদির অনুসারে বানান নির্ধারণ হতে পারে। যেমন:

সন্ধি
বর্ণের মিলনে, বর্ণে বিকৃতিতে বা বর্ণ লোপে শব্দের বানান সঠিক করা যায়। যেমন :
*ঈ, ঊ, উৎ—জ্জ/জ্জ্ব, ঃ—র/ষ ইত্যাদি নিয়মে সন্ধিজাত শব্দ হয়। যেমন: রবীন্দ্র (বরি +ইন্দ্র), কটূক্তি (কটু+উক্তি), অহরহ (আহঃ+অহ), আবিষ্কার, পুরস্কার, উৎ+চারণ=উচ্চারণ, অতঃ+ এব= অতএব, উৎ+স্থান=উত্থান, ইতি+ মধ্যে = ইতোমধ্যে।

*নিয়মহীনভাবে সন্ধিজাত শব্দ হতে পারে। যেমন : এক+দশ=একাদশ, গো+অক্ষ= গবাক্ষ ইত্যাদি।
সন্ধি শব্দ গঠনের শক্তিশালী মাধ্যম তবে সংস্কৃত ও সংস্কৃত শব্দে সন্ধি করতে হয়। সংস্কৃত ও বাংলা শব্দের সন্ধি হয় না। উচ্চারণে সুবিধা করতে গিয়ে শব্দকে অশুদ্ধ করা ঠিক নয়। সন্ধির নিয়মে বাক্য শুদ্ধতা রজায় রাখা যায়। যেমন : অর্থাভাবে—অর্থ অভাবে, লজ্জাস্কর—লজ্জা কর/লজ্জাজনক, দুরাবস্থা—দুরবস্থা, উল্লে¬খিত—উল্লি¬খিত, উপরুক্ত/উপরোক্ত— উপরিউক্ত, সম্বর্ধনা— সংবর্ধনা, কিম্বা—কিংবা, ইতিমধ্যে—ইতোমধ্যে ইত্যাদি।

বর্ণ রূপান্তরিত বানান
ধ্বনি বা বর্ণের পরিবর্তনগুলো লক্ষ করা যায় :
১. স্বরাগম : প্রথম বা মাঝে স্বরে ব্যঞ্জনের আগমন ঘটে। যেমন : স্কুল>ইস্কুল, কর্ম> করম।
২. স্বর সংগতি : স্বরের সংগতি রেখে স্বরের আগমন ঘটে। যেমন : রুপা>রুপো, শিয়াল >শেয়াল।
৩. অপিনিহিতি : মাঝে ই যোগ হয়। যেমন : ডাল>ডাইল, চাইল, কাইল, আইজ ।
৪. অভিশ্রুতি : মাঝে ই যোগ হয়। যেমন : কন্যা>কইন্যা>কনে, আজি> আইজ>আজ।
৫. সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ : মধ্যধ্বনি লোপ পায়। যেমন : উদ্ধার>উধার, রাত্রি> রাতি।
৬. অন্তর্হতি : মধ্যধ্বনি বাদ যায়। যেমন : ফাল্গুন>ফাগুন, বাহির>বার।
৭. ব্যঞ্জনচ্যুতি : মধ্য বা শেষ ধ্বনি বাদ যায়। যেমন: বড়দাদা>বড়দি, ছোটদি/ ছোটদা।
৮. ধ্বনি বিপর্যয় : মধ্যধ্বনির পরিবর্তন হয়। যেমন : রিকশা>রিশকা, পিশাচ>পিচাশ, সচেতন >সতেচন, লাফ>ফাল।
৯. বিষমীভবন : র ও ল এর বিপর্যয় ঘটে। যেমন : শরীর>শরীল, লাল>নাল।
১০. ব্যঞ্জন বিবৃতি : নতুন ব্যঞ্জনবর্ণ বসে। যেমন : কবাট>কপাট, ধাইমা> দাইমা।
১১. অসমীকরণ : মাঝে আ-কারের আগমন ঘটে। যেমন : টপটপ> টপাটপ।
১২. সমীভবন : শেষে বর্ণ দ্বিত্ব হয়। যেমন : পদ্ম>পদ্দ, গল্প>গপ্প।
১৩. দ্বিত্ব ব্যঞ্জন : মাঝে দ্বিত্ব ব্যঞ্জনবণের্র আগমন ঘটে। যেমন : সকাল>সক্কাল, ছোট> ছোট্ট, কিছু>কিচ্ছু।

১৪. র—লোপ পায়: রেফ, ই-কার ও ‘হ’ উঠে দ্বিত্ববর্ণ বসে। যেমন: তর্ক>তক্ক, গৃহিণী> গিন্নি।
১৫. হ—লোপ পায় : হ-লোপ পেয়ে ই বা য় বসে। যেমন : মহাশয়>মশাই, চাহে> চায়।
১৬. অ—শ্রুতি : মাঝের য় উঠে যায়। যেমন : মায়ের>মার।
১৭. অন্তস্থ-ব শ্রুতি : মাঝের ও উঠে যায়। যেমন : নেওয়া>নেয়া, দেওয়া>দেয়া।

সমাস
সমাস অর্থ সংক্ষেপ বা মিলন। পরস্পর অর্থবোধক দুই বা অধিক শব্দ বা পদের মিলনকে সমাস বলে। পাশাপাশি দুই বা তার অধিক শব্দ বা পদ থাকতে হবে, এসব শব্দ বা পদের মধ্যে অর্থসংগতি থাকতে হবে, এসব শব্দ বা পদের মধ্যে বৃহৎ শব্দ বা পদ তৈরির যোগ্যতা থাকতে হবে, নতুন শব্দ বা পদ গঠন করার ক্ষমতা থাকতে হবে, একাধিক শব্দ বা পদকে সংকোচিত করার ক্ষমতা থাকতে হবে, শব্দ বা পদগুলোর বিভক্তি লোপ পেতে হবে, গঠিত শব্দ একশব্দ অথবা মাঝে হাইফেনযুক্ত হবে। এসব বৈশিষ্ট্য নিয়ে গঠিত হয় সেগুলোই সমাস।
শব্দ সংক্ষেপণের মাধ্যমে বানান সঠিক করা যায়। যেমন :
*বিশেষ্য-বিশেষ্য বা বিশেষণ সমাসের নিয়মে একশব্দ হয়। যেমন : ছেলেমেয়ে, ছাত্রছাত্রী, ভাইবোন, বড়দিদি, বড়ভাই ইত্যাদি।
*আলাদা অথবা হাইফেন অথবা একসাথে লেখা হচ্ছে। যেমন : তাছাড়া, এজন্য, এক্ষেত্রে, সেই, তাই।
*সমামবদ্ধ কিন্তু ঈ-কার দিয়ে লেখা হচ্ছে। যেমন : কীভাবে, কীসের, কীরূপ, কীজন্য, নারীচিহ্ন, পথিবীব্যাপি, নদীমাতৃক ইত্যাদি।
*সমামবদ্ধ কিন্তু ই-কার দিয়ে লেখা হচ্ছে। যেমন: প্রাণিজগৎ, প্রাণিবিদ্যা, মন্ত্রিসভা ইত্যাদি।
*হাইফেন বা শব্দযোজকচিহ্ন দিয়ে লেখা হচ্ছে। যেমন: নারী-চিহ্ন, পৃথিবী-ব্যাপি, নদী-মাতৃক ইত্যাদি।

সমাসযোগে শব্দ গঠিত হলে এদের বানান তেমন পরিবর্তন না হলেও শুধু মাঝের ঈ-কার ইকারে পরিণত হয়। যেমন: প্রাণিজগৎ, প্রাণিবিদ্যা, নারিচিহ্ন, মন্ত্রিসভা। আবার শব্দযোজকচিহ্ন (হাইফেন) দিন বা না দিয়েও লেখা যায়। যেমন: ছেলে ও মেয়ে/ছেলেমেয়ে, কুসুমের মতো কোমল/ কুসুমকোমল, মন রূপ মাঝি/মনমাঝি, শহিদদের স্মৃতি রক্ষার্থে নির্মিত মিনার/শহিদমিনার।
*‘স্ব’ অর্থ নিজের আর ‘সহ’ অর্থ সাথে। যেমন : স্বজাতি হলো নিজের জাতি আর সজাতি হলো জাতিসহ।
*দুটি শব্দে বিভক্তি, নির্দেশক, প্রত্যয় (ই/ঈ/ইতা-প্রত্যয় বাদে), সন্ধি, উপসর্গ যোগ করলে বানানের এমন কী বর্ণের কোনো পরিবর্তন হয় না। যেমন : নারীকে, নারীতে, নারীটি, নারীগুলো, নারীগণ।
*বনজ—যা বনে জন্মে সমাসের নিয়ম অনুসারে লেখা যায়। কিন্তু ‘ফলজ’ ভুল ব্যবহার। এটির সঠিক ব্যবহার হলো ‘ফলদায়ী গাছ’।

বিসিএস ও অন্যান্য জবের জন্য বানান ও বাক্য শুদ্ধি: পর্ব ০৩

উপসর্গ
উপসর্গ শব্দের আগে বসিয়ে নতুন শব্দ গঠন করা যায় আবার শব্দের বানানও সঠিক করা যায়। যেমন :
*নিঃ+র হলে ঈ-কার হয়। যেমন : নীরস (নিঃ+রস), নীরব ইত্যাদি।
*নিঃ+অন্যবর্ণ হলে ই-কার বসে। যেমন : নির্গমন (নিঃ+গমন), নির্ভর ইত্যাদি।

*নিঃ+অ/আ থেকে ‘র’ হলে ই-কার হয়: নিরপরাধ (নিঃ+অপরাধ)।
*উপসর্গের পরে হাইফেন/শব্দযোজক বসে না তবুও বসানো হচ্ছে। যেমন : উপশহর, উপ-পরিচালক, সাবটেক্স, সাব-কনট্রাক্ট।
*‘অ’ যদি নাবোধক হিসেবে ব্যবহৃত হয় তাহলে সেই শব্দের শেষে ‘হীন’ যুক্ত হয় না। যেমন : অসচেতনহীনভাবে, অক্লান্তিহীনভাবে।
*শব্দ ভাঙ্গলে ‘সু’ পাওয়া যায় বলে ‘সুস্বাগত’ না হয়ে হবে ‘স্বাগত’ (সু+আগত)
*দুর/দূর : দুর উপসর্গ। যেমন : দুরন্ত, দুরূহ : দুরূহ (দুর+ঊহ) কঠিন, কষ্টসাধ্য। আর দূর (দূরত্ব)। দুরারোগ্য (দূরারোগ্য নয়)।
যাদের নিজস্ব কোনো অর্থ নাই তবে অন্য শব্দের আগে বসে নতুন শব্দ গঠন করতে পারে। যেমন: আ-গাছা, নি-নিখুঁত, নির-নীরব, প্র-প্রধান, পরা-পরাজয় ইত্যাদি।

বিভক্তি
যাদের নিজস্ব কোনো অর্থ নাই তবে অন্য শব্দের (ধাতু ও নামশব্দ) পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করতে পারে। যেমন: করব, গাইছি, বলছি, আমরা, রহিমরা।
‘এ, য়, তে, কে, র, এর’ ইত্যাদি সঠিকভাবে ব্যবহার করে শব্দের বানান ঠিক করা যায়। যেমন:
*যোজকযুক্ত শব্দের আগে ও পরে দুটি শব্দতেই বিভক্তি বসে। যেমন : দুধে ও ভাতে, স্কুলে ও কলেজে, দুধভাত/দুধেভাতে ।
*‘অ’ হলে বিভক্তি ‘এর’ সবে। যেমন : হাসানের, করিমের ইত্যাদি।
*‘আ’ হলে বিভক্তি ‘র’ বসে। যেমন : হাসিনার, রহিমার ইত্যাদি।
*দুটি বিভক্তি একটি শব্দের বসে না। যেমন : বুকেতে, চোখেতে ইত্যাদি।
*সংস্কৃত শব্দ হলে বিভক্তি বসে না। কিন্তু বাংলা শব্দ হলে বিভক্তি সে। যেমন : মাতৃভূমি—মায়ের ভূমি।
*বিভক্তি, নির্দেশক, বচনযুক্ত বানানে ঈ-কার অপরিবর্তিত থাকে। যেমন : বিজ্ঞানীকে, বিজ্ঞানীটি, বিজ্ঞানীগণ, বিজ্ঞানীরা।
*বহুবচন জাতীয় শব্দে ‘কে’ বসে না। ‘কে’ একজনকে নির্দেশ করে। তাই বহুবচন জাতীয় শব্দের পরে ‘কে’ ব্যবহার বাক্যের গুণ নষ্ট করে। যেমন: তাদেরকে, আমাদেরকে, সব পাগোলগুলোকে, সব অতিথিবৃন্দগণকে।
*বস্তুবাচক একবচন পদে কোনো বিভক্তি (কে, রে) বসে না। শব্দটি একবচন হলে ‘টি’ আর বহুবচন হলে ‘গুলো’ বসে। যেমন : ঘড়িকে (ঘরিটি), বইকে (বইটি/বইগুলো) ইত্যাদি।

 


*সংস্কৃতিতে তাহাদিগকে/আমাদিগকে ব্যবহার করা হয়। দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাসে বস্তু বা প্রাণিবাচক কর্তায় ‘কে’ বসানো হচ্ছে। যেমন : বইকে পড়া=বইপড়া, গানকে শোনা, সাপকে ধরা,
রথকে দেখা, ভয়কে প্রাপ্ত, কাপড়কে কাঁচা, ভাতকে রাঁধা, নথকে নাড়া।

প্রত্যয়
প্রত্যয় শব্দের পরে বসিয়ে নতুন শব্দ গঠন করা যায় আবার শব্দের বানানও সঠিক করা যায়। যেমন :
*লি, আমি, উরি-প্রত্যয়যোগে শব্দের বানানে ই/উ-কার হয়। যেমন : রুপালি, সোনালি, বোকামি, ডুবুরি ইত্যাদি।
*‘অ/আ’ থাকলে ‘আ+ইক’ হয়। যেমন : সমাজ+ইক=সামাজিক, সাহিত্য+ইক =সাহিত্যিক ইত্যাদি।
*অবশ্য+অক=আবশ্যক। ‘আবশ্য+অক+ঈয়=আবশকীয়’ ভুল ব্যবহার।
*‘ই’ থাকলে ‘ঐ+ইক’ হয়। যেমন : ইতিহাস+ইক=ঐতিহাসিক, ইচ্ছা+ইক= ঐচ্ছিক ইত্যাদি।
*য-প্রত্যয় যুক্ত হলে আ/ঐ/ঔ হয়। যেমন : কৃপণ+য=কার্পণ্য, শিথিল+য=শৈথল্য, চেতনা+য= চৈতন্য, সুজন+য=সৌজন্য ইত্যাদি।
*দুটি প্রত্যয় একটি শব্দের বসে না। যেমন : দৈন্যতা (দৈন্য/দীনতা), একত্রিত (এক+ত্র), সখ্যতা (সখ+য+তা) ইত্যাদি।
*ইষ্ঠ-প্রত্যয় যুক্ত হলে তর বা তম-প্রত্যয় যুক্ত হয় না। যেমন : শ্রেষ্ঠতম, শ্রেষ্ঠতর।
*ৎ+ত্ব=ত্ত্ব হয়। যেমন : মহৎ+ত্ব=মহত্ত্ব (মহত্ব হয় না)
*ইনি প্রত্যয় কিন্তু ইণি বসানো হচ্ছে। যেমন : গৃহিণী (গৃহ+ইনি)।
*ঈ—ইত্ব: কৃতী—কৃতিত্ব, স্থায়ী—স্থায়িত্ব।
*ঈ—ইতা : উপকার—উপকারী—উপকারিতা, উপযোগ—উপযোগী—উপযোগিতা।
*ঈ—ইনী : অধিকার—অধিকারী—অধিকারিনী।
*অবশ্য+ক=আবশ্যক+ঈয়=আবশ্যকীয়।
*ইত-প্রত্যয়জাত শব্দ নয় : কলুষিত, আনীত, উন্নীত, গৃহীত।

নির্দেশক
অর্থবোধক শব্দের পরে নির্দেশক যুক্ত করেও আমরা শব্দ বানাতে পারি। শব্দ বা পদের পরে বসে সেই শব্দ বা পদের সংখ্যা বা পরিমাণ নির্দেশনকারীকে নির্দেশক বলে। নির্দেশক ব্যবহারেরও কিছু নিয়ম আছে। যেমন: নির্দেশক শব্দের আগে বা পরে যুক্ত করে শব্দ বানাতে পারি। তবে ‘টা/টি, খানা/খানি’ শব্দের সাথে যুক্ত করে শব্দকে নির্দেষ্ট করলে আবার তার আগে ‘এই’ বা ‘ঐ’ ব্যবহার করা যাবে না। শব্দের পরে গুলো যুক্ত হলে এরপরে আবার কে যুক্ত করা যাবে না।
‘টি/টা/খানা/খানি’ ব্যবহার করে শব্দকে নির্দিষ্ট করলে তার আগে ‘এই, ওই, সেই’ ব্যবহার করা হয় না। যেমন : এই বইটি, এই গ্রন্থটি, এই বইখানি, এই রচনাটি, ওই বইটি, সেই ছেলেটি ইত্যাদি। সমস্ত ধারণাটি—সমস্ত ধারণা বা ধারণাগুলো।

 


জাতি, বস্তু, সমষ্টি বা গুণবাচক বিশেষ্য পদের সাথে যুক্ত—মানুষটা/টি, বেড়ালটি, গরুগুলো, বাড়িগুলো। সর্বনামপদের সাথে যুক্ত—এইটি/এটি, সেইটি/সেটি, ঐটি, ঐগুলো, ঐসবগুলো, কোনটি, কোনগুলো, যেটি, যেগুলো, অন্যটি, অন্যগুলো।
বিশেষণ পদের সাথে যুক্ত—অনেকটা, অনেকগুলো, কিছুটা, এতটা, এতগুলো, ভালোটা/টি, মন্দটা/টি, সত্যটি, সবুজটি। ঠান্ডটি, রোগাটি, দশটি, অর্ধেকটি, বেশিটি, অল্পটি, অনেকগুলো ইত্যাদি। সংস্কৃত সমষ্টিবাচক একশব্দ হতে পারে আবার আলাদা বসতে পারে। টি/টা, খানা/খানি, টুকু, টুকুন, গোটা, ফালি, খণ্ড, টুকরা, ইত্যাদি শব্দের পরে একসাথে বসে এবং এদের পরে ‘কে’ প্রয়োজনে বসে।

বচন
সংখ্যার ধারণা অর্থাৎ গণনায় এক, অধিক, আস্ত, খণ্ড বা বেশি বুঝাতে বচন লাগে। বিশ্বের অন্যান্য ভাষায় একবচন, দ্বিবচন, বহুবচন আছে কিন্তু বাংলা ও ইংরেজিতে একবচন ও বহুবচন ব্যবহার করা হয়। ইংরেজি বা সংস্কৃতিতে ‘সকল শিক্ষকগণ’ লেখা হলেও বাংলাতে ‘সকল শিক্ষক’ লেখা হয়। একটি বাক্যে দুবার বা তিনবার বহুত্বচিহ্ন ব্যবহার করে বাক্যের গুণ নষ্ট করা হয়। যেমন : গ্রামগুলো সব, লক্ষ লক্ষ শিশুগুলো সব, সব রাজাকারদের, যাবতীয় প্রাণিবৃন্দ, লেখকবৃন্দদেরকে, সকল অতিথিবৃন্দগণদের ইত্যাদি।
‘কিছু/অল্প’ ব্যবহার হলে পরে বহুবচন হয় না। যেমন : কিছু লোকদের, কিছুসংখ্যক, অল্পসংখ্যক, কিছু মানুষদের, অধিক/বেশি পরিমাণ। ‘গণ, বৃন্দ, বর্গ, মণ্ডলি, সব, সকল, সমূহ, অজস্র, নানা, নানান, ঢের, অনেক, বিস্তর, বহু, কুল, গোছা, রাশি, রাজি, মালা, গুচ্ছ, পুঞ্জ, আবলি, জোড়া, ডজন, হালি’ ইত্যাদি বহুবচন শব্দের পরে ‘কে’ বসে না। যেমন : গণকে, সমূহকে।

Collected

Comments

Popular posts from this blog

সমাজসেবা অধিদপ্তরের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদের পরীক্ষার প্রশ্ন-সমাধান

৪,০৩২ পদে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এ নিয়োগআবেদনের শেষ তারিখঃ 2020-11-30