বাংলা ব্যাকরণে ‘পদ প্রকরণ’ নিয়ে আলোচনা (প্রাইমারি, ব্যাংক, বিসিএস সহ সব ধরনের চাকরির প্রস্তুতি জন্য)

 



বাংলা ব্যাকরণে ‘পদ প্রকরণ’ নিয়ে আলোচনা: পার্ট-০১

বাক্যে ব্যবহৃত প্রত্যেকটি শব্দই এক একটি পদ।
বিভক্তিযুক্ত শব্দ ও ধাতুই পদ।
পদ সাধারণত দুই প্রকার।
১.সব্যয় পদ
২.অব্যয় পদ
সব্যয় পদ আবার চার প্রকার । যথা:
১.বিশেষ্য
২.বিশেষণ
৩.সর্বনাম
৪.ক্রিয়া
সুতরাং পদ মোট পাচ প্রকার: বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া এবং অব্যয়।

বিভিন্ন প্রতিযোগীতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নোত্তর
১.পদ বলতে কি বোঝায়? (২০ তম বিসিএস)
-বিভক্তিযুক্ত শব্দ ও ধাতু
২.বিভক্তিযুক্ত শব্দ ও ধাতুকে বলে – (১১ তম বিসিএস)
-পদ
বিশেষ্য: বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম, বা গুণের নাম বোঝানো হয়, তাদের বিশেষ্য পদ বলে।
বিশেষ্যের শ্রেণিবিভাগ:
বিশেষ্য পদ ছয় প্রকার:
১.নামবাচক বিশেষ্য
২.জাতিবাচক বিশেষ্য
৩.বস্তুবাচক বিশেষ্য
৪.সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
৫.ভাববাচক বিশেষ্য
৬.গুণবাচক বিশেষ্য
সজ্ঞা বাচক বিশেষ্য: যে পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, ভৌগোলিক স্থান বা সংঙ্গা এবং গ্রন্থ বিশেষের বিজ্ঞাপিত হয়, তাকে সঙ্গাবাচক বিশেষ্য বলে। যথা –
ব্যক্তির নাম: জামিল, রুবেল, নাহিল, আমিনুল।
ভৌগোলিক স্থানের নাম: বগুড়া, ঢাকা, প্যারিস, মক্কা।
ভৌগোলিক সংজ্ঞা: করতোয়া, হিমালয়, আরব-সাগর।
গ্রন্থের নাম: কৃষ্ণকুমারী, অগ্নিবীণা, পথের দাবী, সঞ্চয়িতা, বিশ্বনবী।
জাতিবাচক বিশেষ্য: যে পদ দ্বারা কোনো এক জাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায়, তাকে জাতীবাচক বিশেষ্য বলে। যেমন: মানুষ, গরু, পাখি, পর্বত, নদী।

বস্তুবাচক বিশেষ্য: যে পদে কোনো উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায় তাকে বস্তুবাচক বিশেষ্য বলে। যথা: বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, ইত্যাদি।
সমষ্টিবাচক বিশেষ্য: যে পদে বেশ কিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বোঝায় তাকে সমষ্টিবাচক বিশেষ্য বলে। যথা: সভা, জনতা, সমাজ ইত্যাদি।
ভাববাচক বিশেষ্য: যে বিশেষ্য পদে কোনো ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয় তাকে ভাববাচ্য বিশেষ্য বলে। যথা: যাওয়ার ভাব বা কাজ = গমন।
আবার ধাতুর বা প্রতিপাদকের পর আেই প্রত্যয় যুক্ত করে ভাববাচ্য বিশেষ্য গঠিত।
বড়+আই = বড়াই
গুণবাচক বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায় তাকে গুণবাচক বিশেষ্য বলে। যেমন:
মধুর মিষ্টত্বের গুণ = মধুরতা।

 

বাংলা ব্যাকরণে ‘পদ প্রকরণ’ নিয়ে আলোচনা: পার্ট-০২

বিভিন্ন প্রতিযোগীতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নোত্তর
১.জাতিবাচক বিশেষ্যের দৃষ্টান্ত – (১৪ তম বিসিএস)
-নদী
২.কোনটি গুণবাচক বিশেষ্য? (মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কর্মকর্তা:৯৮)
-তারুন্য
৩.ধাতুর পর কোন প্রত্যয় যুক্ত করে ভাববাচক বিশেষ্য বুঝায়? (১৮ তম বিসিএস)
-আই
৪.কোনগুলো বিশেষ্য পদের উদাহরণ – (প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক:০২)
-আরব সাগর, বিশ্বনবী
৫.উৎকর্ষ হচ্ছে – (ভূ -তাত্ত্বিক অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক:০৬)
-বিশেষ্য
৬.নিচের কোন শ্দিটি বিশেষ্য? (প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পার্সোনাল অফিসার:০৪)
-অরন্য
৭.’লাজ’ কোন ধরণের শব্দ? (বাতিলকৃত ২৪ তম বিসিএস)
-বিশেষ্য
৮.’চালাক’ এর বিশেষ্য পদ কি? (দুর্নীতি দমন ব্যুারোর সহকারী পরিচালক:০৪)
-চালাকী
৯.প্রচুর এর বিশেষ্য রূপ – (শ্রম মন্ত্রণালয়ের অধীনে সহকারী পরিচালক:০৫)
-প্রাচুর্য
১০.’কাবুলী’ এর বিশেষ্য পদ কোনটি? (শ্রম মন্ত্রণালয়ের অধীনে সহকারী পরিচালক:০১)
-কাবুলীওয়ালা
১১.সুন্দর মাত্রেরই একটা আকর্ষণ শক্তি আছে। এই বাক্যে ‘সুন্দর’ শব্দটি কোন পদ? (বাতিলকৃত ২৪ তম বিসিএস)
-বিশেষ্য
১২.সুন্দর মানুষকে নিগেজর দিকে টানে? এই বাক্যে ‘সুন্দর’ শব্দটি কোন পদ? (তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে টেলিভিশন প্রোকৌশলী: ০৪)
-বিশেষ্য
১৩.নিচের কোন বাক্যে ‘ভালো’ বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
-নিজের ভালো কে না চায়
১৪.ভালো কোন বাক্যে বিশেষ্য অর্থে ব্যবহৃত হয়? (সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা:০৭)
-নিজের ভালো কে না চায়
১৫.’ভালো নিজেকে ঝাহির করে না, অনেক সময়ই তাকে খুজে বের করতে হয়।’ এই বাক্যে ‘ভালো’ শব্দটি কোন পদ? (তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে টেলিভিশন প্রোকৌশলী: ০৪)
-বিশেষ্য

বিশেষণ পদ: যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ পদ বলে।
বিশেষণ পদের প্রকারভেদ:
বিশেষণ পদ প্রধাণত দুই প্রকার। যথা:
১.নাম বিশেষণ
২.ভাব বিশেষণ
নাম বিশেষণ আবার দুই প্রকার। যথা:
১.বিশেষ্যের বিশেষণ
২.সর্বনামের বিশেষন
ভাব বিশেষণ আবার ৪ প্রকার। যথা:
১.ক্রিয়া বিশেষণ
২.বিশেষণের বিশেষণ
৩.অব্যয়ের বিশেষণ
৪.বাক্যের বিশেষণ

বাংলা ব্যাকরণে ‘পদ প্রকরণ’ নিয়ে আলোচনা: পার্ট-০৩

ক. নাম বিশেষণ: যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে বিশেষণ বলে। যথা:
বিশেষ্যের বিশেষণ: ধাতুর শেষে অন্ত প্রত্যয় যোগ করে গঠিত পদটি বিশেষ্যের বিশেষণ হয়। যেমন:
√চল+অন্ত=চলন্ত (বিশেষ্যের বিশেষণ)
√পড়+অন্ত=পড়ন্ত (বিশেষ্যের বিশেষণ)
সর্বনামের বিশেষণ: মেঘনা বড় নদী।
এই আমি আর নই একা।
খ.ভাব বিশেষণ: যে পদ বিশেষ্য ও সর্বনাম ভিন্ন অন্য পদকে বিশেষিত করে তাই ভাব বিশেষণ।
ভাব বিশেষণ চার প্রকার। যথা:
১.ক্রিয়া বিশেষণ
২.বিশেষণেল বিশেষণ
৩.অব্যয়ের বিশেষণ
৪.বাক্যের বিশেষণ

ক্রিয়া বিশেষণ: যে পদ ক্রিয়া সংগঠনের ভাব, কাল বা রূপ নির্দেশ করে, তাই ক্রিয়া বিশেষণ। যথা:
বাতাস ধীরে বইছে।
সে খুব তাড়াতাড়ি হাটিল।
বিশেষণীয় বিশেষণ: যে পদ নাম বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে, তাকে বিশেষনীয় বিশেষণ বলে। যথা:
সামান্য একটু দুধ দাও।
অতিশয় মন্দ কথা।
অব্যয়ের বিশেষণ: যে ভাব বিশেষণ অব্যয় পদ অথবা অব্যয় পদের অর্ধেক বিশেষিত করে, তাকে অব্যয়ের বিশেষণ বলে। যথা –
ধিক তারে, শত ধিক নিলজ্জ যে জন।
বাক্যের বিশেষণ: কখনো কখনো কোনো বিশেষণ পদ একটি সম্পূর্ণ বাক্যকে বিশেষিত করতে পারে, তখন তাকে বাক্যের বিশেষণ বলা হয়। যেমন-
দুর্ভাগ্যক্রমে দেশ আবার নানা সমস্যাজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
বাস্তবিকই আজ আমাদের কঠিন পরিশ্রমের প্রয়োজন।
বিশেষণের অতিশায়ন: বিশেষণ পদ যখন দুই বা ততোধিক বিশেষ্য পদের মধ্যে গুণ, অবস্থা, পরিমাণ প্রভৃতি বিষয়ে তুলনায় একের উৎকর্ষ বুঝিয়ে থাকে তাকে বিশেষণের অতিশায়ণ বলে। যেমন-

তৎসম শব্দের অতিশায়ন:
দুয়ের মধ্যে ‘তর’ এবং বহুর মধ্যে ‘তম’ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে থাকে। যেমন:
দীর্ঘ – দীর্ঘতর – দীর্ঘতম
দুয়ের মধ্যে তুলনায় ‘ঈয়স’ প্রত্যয় এবং বহুর মধ্যে তুলনায় ‘ইষ্ঠ প্রত্যয় যুক্ত হয়।
লঘু – লঘীয়ান – লঘিষ্ঠ
শ্রেয় – শ্রেয়ান – শ্রেষ্ঠ
অল্প – কনীয়ান – কণিষ্ঠ

বাংলা শব্দের অতিশায়ন:
ক.দুয়ের মধ্যে অতিশায়ন:
চাইতে, চেয়ে, হইতে, হতে, অপেক্ষা, থেকে ইত্যাদি শব্দ ব্যবহৃত হয়। যথা:
গরুর থেকে ঘোড়ার দাম বেশি।
বাঘের চেয়ে সিংহ বলবান
কখনো কোনো শব্দে ষষ্ঠী বিভক্তি – চেয়ে, থেকে প্রভৃতি শব্দের কার্যসাধন করে। যথা:
এ মাটি সোনার বাড়া।

খ.বহুর মধ্যে অতিশায়ন:
সবচাইতে, সবচেয়ে, সবথেকে, সর্বাপেক্ষা, সর্বাধিক প্রভৃতি শব্দ ব্যবহার হয়। যথা:
ভাইদের মধ্যে রাসেলই সবচাইতে বিচক্ষণ।

সংগৃহিত 

Comments

Popular posts from this blog

সমাজসেবা অধিদপ্তরের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদের পরীক্ষার প্রশ্ন-সমাধান

৪,০৩২ পদে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এ নিয়োগআবেদনের শেষ তারিখঃ 2020-11-30